empty
 
 
02.04.2026 10:30 AM
ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রভাবে জ্বালানি তেলের দাম তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্র আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানের ওপর অত্যন্ত শক্তিশালী আঘাত হানবে—যার ফলে তেলের মূল্য তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলমান সংঘাতের দ্রুত সমাপ্তির প্রত্যাশাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

This image is no longer relevant

মধ্যপ্রাচ্যে অত্যন্ত উচ্চ মাত্রার ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি খাতকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করছে। বেঞ্চমার্ক ব্রেন্টের দর তীব্রভাবে বাড়ছে এবং ব্যারেলে প্রতি $108 ছাড়িয়েছে, যা আগেরদিনের তুলনায় 6.6% বৃদ্ধি চিহ্নিত করে। এই তীব্র বৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো হরমুজ প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে—এটি ওই মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি পরিবহনের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় বিশ্ব বাজারে তেলের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।

ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য বিনিয়োগকারীদের অস্থিরতা প্রশমনের উদ্দেশ্যে দেয়া হয়েছিল, তবে সেইরকম কিছুই ঘটেনি। মধ্যপ্রাচ্য সংকট সমাধানের ইঙ্গিত দেওয়ার বদলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির সম্ভাবনার সংকেত দিয়েছেন। বিশেষ করে জ্বালানি অবকাঠামোর উপর সম্ভাব্য হামলা সম্পর্কিত মন্তব্য উদ্বেগজনক ছিল। এই ধরনের ভাষা তৎক্ষণাৎ মার্কেটের সামগ্রিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটায়, ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেট থেকে মূলধন সরিয়ে নেয় এবং সুরক্ষামূলক ইনস্ট্রুমেন্টে বিনিয়োগ করতে প্ররোচিত করে।

মার্কেটের ট্রেডারদের দৃষ্টিতে ট্রাম্পের বক্তব্যকে অত্যন্ত নেতিবাচক কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিদ্যমান উচ্চ বৈশ্বিক চাহিদার মধ্যে তেলের সরবরাহ হ্রাসের প্রত্যাশাই এটির মূল্যকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। স্পষ্ট কূটনৈতিক পদক্ষেপের অভাবে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে এবং মুদ্রাস্ফীতির হার বাড়াবে।

হোয়াইট হাউস থেকে দেয়া ভাষণে ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেছেন যে প্রধান কৌশলগত লক্ষ্যগুলো প্রায় অর্জিত হওয়ার পথে এগোচ্ছে। তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে সামরিক কার্যক্রম শীঘ্রই তীব্র আকার ধারণ করতে পারে, এবং বলেছেন, "আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে আমরা তাদের প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যাব, যেখানে তাদের থাকা উচিত।"

এটি স্পষ্ট যে, ট্রেডাররা আরও স্পষ্ট ও ভিন্ন অবস্থানের প্রত্যাশা করেছিল—বিশেষত সংঘাত কখন শেষ হবে তা নিয়ে। বিনিয়োগকারীরা, ট্রাম্পের ভাষণ থেকে অনুপ্রাণিত না হয়ে, আবারও তেল কেনা শুরু করে, যা মার্কিন ডলারকে উল্লেখযোগ্য সহায়তা দেয় এবং স্বর্ণের দরপতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট স্বভাববিরুদ্ধভাবে আমেরিকানদের উদ্দেশ্যে একটি চিঠি লিখেছেন—সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে তার দেশ যুক্তরাষ্ট্রের শত্রু নয় এবং তারা যা করছে আত্মরক্ষার্থে করছে। তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে এই যুদ্ধ অব্যাহত রাখার পথ বেছে নেয়া হলে তা আগের চেয়ে অনেক বেশি ব্যয়সাপেক্ষ ও নিরর্থক হবে এবং অবকাঠামোর ওপর আক্রমণের ফলে ইরানের সাধারণ জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

This image is no longer relevant

তেলের টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের তেলের মূল্যের নিকটস্থ রেজিস্ট্যান্স $106.83 অতিক্রম করাতে হবে। এর ফলে তেলের মূল্যের $113.36-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করার সুযোগ পাওয়া যাবে, যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে। ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকার ক্ষেত্রে $115.40-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যায়। অন্যদিকে, তেলের দরপতন হলে, মূল্য $100.40-এ থাকা অবস্থায় ক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে; তারা সফল হলে এই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনগুলোর মারাত্নক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে এবং তেলের মূল্য $92.54 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, এমনকি $86.67 পর্যন্ত নেমে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.