empty
 
 
05.05.2026 10:02 AM
জ্বালানি তেলের শক্তিশালী মূল্য বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে

গতকাল তীব্র উত্থানের পর আজকের এশীয় সেশনে জ্বালানি তেলের মূল্য সামান্য হ্রাস পেয়েছে; তবুও মার্কেটের ট্রেডাররা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার নতুন সংঘর্ষের পরও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে।

This image is no longer relevant

ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দর সোমবার প্রায় 5.8% তীব্র বৃদ্ধির পরে ব্যারেল প্রতি $113-এ নেমে এসেছে, এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) তেলের দর ব্যারেল প্রতি প্রায় $104-এর কাছাকাছি অবস্থান করছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে যে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানি হামলা প্রতিহত করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে দুটি মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজ অতিক্রম করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ফুজাইরাহ বন্দরের একটি তেল টার্মিনালও আক্রমণের শিকার হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে আমেরিকা হরমুজ প্রণালীতে আটকে থাকা জাহাজগুলোর চলাচল নিশ্চিত করার চেষ্টা করলেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চার সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য বৈশ্বিক তেল সরবরাহের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল, সেখানে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় আবারও জ্বালানি খাতের স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তেলবাহী জাহাজ ও তেল সম্পর্কিত অবকাঠামো হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হলে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকির কারণে প্রায়শই জ্বালানি তেলের দাম বাড়ে। সোমবারের তীব্র উত্থানও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এই উদ্বেগ প্রতিফলিত করেছিল, যদিও পরবর্তী দরপতন মার্কেটের পরিস্থিতিকে শান্ত করার প্রচেষ্টা এবং মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত হয়েছে এমন ইঙ্গিতও দিতে পারে।

মনে রাখবেন যে হরমুজ প্রণালী এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ যার মাধ্যমে এই বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ পরিবহন করা হতো।


বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল ট্রান্সশিপমেন্ট পোর্টগুলোর মধ্যে একটি ফুজাইরাহয়ের তেল টার্মিনালে আক্রমণ অনিশ্চয়তায় আরেকটি মাত্রা যোগ করেছে। এই ধরনের ঘটনা কেবল তেল উৎপাদন ও রপ্তানির পরিমাণকেই প্রভাবিত করে না, বরং ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি বাড়িয়ে বিনিয়োগকারী ও ভোক্তাদের আস্থা দুর্বল করে। ইরানের হামলা প্রতিহত করার জন্য মার্কিন কার্যক্রম ও চলমান উত্তেজনা কমানোর আহ্বান নিকট ভবিষ্যতে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত অত্যাবশ্যক হবে।

সব মিলিয়ে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার চার-সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা এখন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সংঘাত পুনরায় শুরু হলে, এমনকি সীমিত পরিসরে হলেও, উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে এবং শান্তি চুক্তি করা কঠিন হয়ে পড়বে—ফলশ্রুতিতে জ্বালানি তেলের দামের আরেক দফা বাড়তে পারে।

This image is no longer relevant

টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের তেলের মূল্যকে নিকটতম রেজিস্ট্যান্স $106.83-তে পুনরুদ্ধার করতে হবে। এতে তেলের মূল্যের $113.00-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে, যা অতিক্রম করা বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে প্রায় $118.80-এর লেভেল নির্ধারণ করা যায়। তেলের দরপতনের ক্ষেত্রে মূল্য $100.40-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করবে; তারা সফল হলে এই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হলে তেলের মূল্য $92.50 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, এবং পরবর্তীতে $86.67-এ নেমে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.