আরও দেখুন
শুক্রবার বেশ কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, যার মধ্যে কয়েকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সর্বপ্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে—নতুন ট্রেডারদের যুক্তরাষ্ট্রের ননফার্ম পে-রোলস এবং বেকারত্ব হার সংক্রান্ত প্রতিবেদনের ফলাফল বিশ্লেষণ করতে হবে। মনে রাখবেন এই প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল দুর্বল হতে পারে, কিন্তু যদি ফলাফল পূর্বাভাসের চেয়ে ইতিবাচক হয় তবে এটি নতুন করে ডলারের দর বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। অতিরিক্তভাবে যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা বিক্রয় ও বেতন সংক্রান্ত প্রতিবেদনও প্রকাশিত হবে, যা ডলারের এক্সচেঞ্জ রেটের উপর ওপর তুলনামূলকভাবে কম প্রভাব ফেলবে। ইউরোজোনে প্রান্তিকের চূড়ান্ত জিডিপি প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, যেটির ফলাফল মার্কেটে তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে সেই সম্ভাবনা কম।
শুক্রবারের ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টগুলোর মধ্যে ক্রিস্টিন লাগার্ডের আরও এক বক্তৃতাসহ ইসিবি ও ফেডের কয়েকজন প্রতিনিধির বক্তব্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে বর্তমানে ট্রেডাররা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর পদক্ষেপের দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন না—বরং তাঁরা মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনাবলীর দিকে দৃষ্টি কেন্দ্রীভূত করেছেন। আমাদের দৃষ্টিতে, জানুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার ও মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবেদনের ফলাফল পরস্পরবিরোধী দ্বিমুখী ছিল; তাই নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে ফেড নিকট ভবিষ্যতে পুনরায় আর্থিক নীতিমালা নমনীয় করা শুরু করবে না। ইউরোজোনে মুদ্রাস্ফীতি 1.7%-এ নেমে গিয়েছিল, কিন্তু এখন তা 1.9%-এ ফিরে এসেছে; ফলে আমরা এই মুহূর্তে ইসিবি থেকে আর্থিক নীতিমালা নমনীয় করার মতো কোনো পদক্ষেপের আশা করছি না। তবুও ফেডের অপেক্ষাকৃত নমনীয় অবস্থান (ইসিবির তুলনায়) বর্তমানে ডলারের এক্সচেঞ্জ রেটে কার্যকর কোনো প্রভাব ফেলছে না।
চলতি সপ্তাহের শেষ দিনের ট্রেডিংয়ে মার্কেটে যেকোনো ধরনের মুভমেন্ট দেখা যেতে পারে, কারণ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ঘটনাবলি মার্কেটকে অস্থিরত করে রেখেছে। পাশাপাশি আজ যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিতব্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনগুলোও উপেক্ষা করা হবে না। আজ ইউরো 1.1584-1.1591 এরিয়ার মধ্যে ট্রেড করা যেতে পারে, এবং ব্রিটিশ পাউন্ড 1.3319-1.3331 এরিয়ার মধ্যে ট্রেড করা যেতে পারে। আমরা এখনও মার্কিন ডলারের শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী বৃদ্ধির জন্য স্পষ্ট কোনো ভিত্তি দেখছি না; তবে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ উভয় পেয়ারের মূল্যকে আরও নিম্নমুখী করতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।